Saturday, December 14, 2019

পবিত্র জন্মবার্ষিকীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সূফী সম্রাট


“মায়ের উদরে চার মাস বয়সে মানুষের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয়”

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্বির্য্যরে মধ্য দিয়ে গত ১৪ই ডিসেম্বর, শুক্রবার মহান সংস্করক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলার ৬৯তম শুভ জন্মদিন দেশে-বিদেশে নানাবিদ কর্মসূচীর মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সকাল হতে বাদ জুম্মা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাণী মোবারক প্রদানকালে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলা বলেন, আজ থেকে ঊনসত্তর বছর পূর্বে আমার জন্ম হয়েছে। আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে জানা যায়, আমরা যখন চার মাস বয়সে মায়ের উদরে থাকি, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয় তার ভাগ্য লিখার জন্য। ফেরেশতা এসে তার ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে দেয়। কতদিন সে দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে; সে বেশী জ্ঞানী হবে, না কম জ্ঞানী হবে- আল্লাহর পক্ষ থেকে লিখে দেয়া হয়। এই হিসেবে যদি আমরা পিছনের দিকে তাকাই দেখতে পাবো- আমাদের হায়াতে জিন্দেগী হতে ঊনসত্তরটি বছর বিদায় হয়ে গেছে। আর কতদিন রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তাঁর এই জগতে থাকার সুযোগ দিবেন, তিনিই ভাল জানেন।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, সবাই চেষ্টা করেন, যেন আল্লাহতে পূর্ণ ঈমানদার হতে পারেন। মুসলিম বিশ্বে দেখেন, মুসলমানদের মধ্যে ফেতনা অনেক। হযরত রাসূল (সঃ) বলেন, অন্যান্য নবীদের মধ্যে ছিল ৭২ ফেরকা বা দল। আর আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ ফেরকা বা দল। এর মধ্যে ৭২ ফেরকা জাহান্নামী। আর একটা দল বেহেশতী। সুতরাং আমাদের ঠিকানা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের আল্লাহর পরিচয় জানতে হবে, রাসূলের পরিচয় জানতে হবে।
তিনি বলেন, হযরত রাসূল (সঃ) ফরমান, মৃত্যুর সময় আমাদেরকে তিনটা প্রশ্ন করা হবে- মার রাব্বুকা? ওয়ামা দ্বীনুকা? ওয়ামান নাবীয়্যুকা? অর্থাৎ- তোমার প্রভু কে? তোমার ধর্ম কি? তোমার নবী কে? আপনি যদি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেন, তবে ঈমান নিয়ে কবরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর জবাব দিতে না পারলে তো আপনি ফেল। সুতরাং দুনিয়াতে থেকেই আল্লাহকে পেতে হবে এবং আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। পৃথিবীতে যত নবী, রাসূল ও অলী-আল্লাহ্ এসেছেন, তাঁরা সবাই সাধনা করে আল্লাহকে পেয়েছেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আমাদের ধর্ম সম্বন্ধে সঠিক ধারণা নেই। আমরা মনে করি- মাদ্রাসায় লেখাপড়া করলে নায়েবে রাসূল হওয়া যায়। নায়েবে রাসূল হতে হলে মাদ্রাসায় পড়তে হয়। আমি মাদ্রাসায় পড়ে দেখেছি, কতটুকু নায়েবে রাসূল হয়েছি। পরে মোর্শেদের দরবারে ১২ বছর গোলামী করে ঈমানদার হতে পেরেছি। সুতরাং নবুয়তের যুগে মানুষ নবী-রাসূলের সাহচর্যে গিয়ে যেমন আল্লাহকে পেয়েছেন, তেমনি এ যুগে নায়েবে রাসূল অলী-আল্লাহদের সাহচর্যে গিয়ে গোলামী করে নিজের ভিতরে দোষ-ক্রুটি দূর করে আল্লাহকে পেতে হবে। আল্লাহকে যদি পান, তবে আপনি মুমেন। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, “আসসালাতু মিরাজুল মু’মিনীন”- নামাজ হলো মুমিনদের মে’রাজ। যিনি মু’মেন, নামাজে তাঁর সাথে আল্লাহর দীদার হয়। তিনি আল্লাহকে দেখে সেজদা করতে পারেন।
তিনি বলেন, আল্লাহকে দেখার কথা বললে- এক শ্রেণীর লোকেরা বলেন, মুসা (আঃ) নবী হয়েও তো আল্লাহকে দেখে নাই। যদি তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি মুসা (আঃ)-এর উম্মত? সকল নবীরাই আল্লাহকে দেখেছেন। আমরা তো এখন আল্লাহকে দেখতেও চাই না। আল্লাহকে দেখলে যদি ঈমান চলে যায়, তবে কাকে দেখলে ঈমানদার হবে? শয়তানকে দেখলে কি মানুষ ঈমানদার হয়? সুতরাং সাধনা করে আপনার মালিক আল্লাহকে চিনেন। আল্লাহকে না চিনলে প্রতিনিধিত্ব করা যায় না। আমরা আগে জানতাম, আল্লাহ্ নিরাকার। কিন্তু সাধনার জীবনে এসে রাব্বুল আলামীনের অশেষ দয়ায় যখন রাব্বুল আলামীনের দেখার খোশ নছিব হয়েছে, কথা বলার সুযোগ হয়েছে, তখন বুঝতে পেরেছি, আল্লাহ্ নিরাকার নয়। এরপরে চিন্তা করলাম, আল্লাহর এই মহা সত্যটা প্রকাশ করতে হবে। দীর্ঘ সাধনার পর আল্লাহর বাণী এবং হযরত রাসূল (সঃ)-এর বাণী দিয়ে আমি আট খণ্ডে ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ লিখেছি। আপনারা তাফসীর পড়ে দেখেন, আমরা পবিত্র কোরআন ও হাদীসের বাইরে একটা কথাও লিখি নাই। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- আমরা ত্রিশ পাড়া কোরআনকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছি, আল্লাহ্ নিরাকার এমন একটা আয়াতও পাই নাই। আমরা মস্ত বড় একটা ভুলে ছিলাম। রাব্বুল আলামীনের দয়ায় আমাদের এই ভুলটা সংশোধন হয়েছে। আপনারা তাফসীর পড়ে দেখেন। সবগুলো কোরআনের আয়াত আমরা সাজিয়ে লিখে দিয়েছি। আল্লাহর বাণী, রাসূলের বর্ণনা দিয়ে তাফসীর সমাপ্ত করেছি।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আল্লাহ্ আমাদের মালিক, রাসূল আমাদের সাফায়েতকারী। অথচ তাঁদের সম্বন্ধে আমাদের সঠিক ধারণা নেই। আমরা মনে করি- আল্লাহ্ নিরাকার, আর রাসূল (সঃ) গরীব ছিলেন। হযরত রাসূল (সঃ)-এর দাদা ছিলেন মক্কার শাসনকর্তা, আর হযরত রাসূল (সঃ) ছিলেন মদীনার শাসনকর্তা। মদীনার শাসন কর্তা কি সত্তর তালি জামা পড়ে সিংহাসনে বসতেন? এসব উল্টা-পাল্টা ধারনা সৃষ্টি হয়েছে হযরত রাসূল (সঃ) সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারনে। সুতরাং আমাদের সবার আল্লাহ্ ও হযরত রাসূল (সঃ) সম্বন্ধে সঠিক ধারণা থাকা উচিৎ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে সাধনা করেন যেন আল্লাহ্ ও হযরত রাসূল (সঃ)-কে পেতে পারেন।
সকাল ৮টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতঃপর স্বাগত ভাষন দেন দেওয়ানবাগ শরীফের মহাসচিব ডক্টর সৈয়দ এম. সাঈদুর রহমান আল মাহবুবী। এরপর হামদ, নাতে রাসূল ও শানে মোর্শেদ পরিবেশিত হয়। সকাল ১১টায় সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশাল বড় কেক কাটেন, ‘সূফী সম্রাট’ নামক স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন করেন এবং দেওয়ানবাগ শরীফের একটি নতুন সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘দোস্তাম’-এর উদ্বোধন করেন। এরপর বাবে রহমত ভবনের ১০ তলার ছাদ থেকে সূফী সম্রাটের পবিত্র জন্মদিনের বেলুন উড়ানো হয়। এরপর দুপুর সোয়া ১২টায় জুম্মার নামাজের আজানের পর জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা, মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত-এ-খোদা ও ছোট সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা বক্তব্য রাখেন। বেলা পৌঁনে দুইটায় আশেকে রাসূল ও মুক্তিকামী মানুষ জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মঞ্চে তশরীফ নিলে সমস্ত আশেকে রাসূলদের পক্ষ থেকে তাঁকে পুষ্পমাল্য প্রদান করেন ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা। অতঃপর তিনি বাণী মোবারক দেয়ার পর সবার ইহকালের শান্তি ও পরকালের মুক্তি কামনা করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. ফজল-এ-খোদা, জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র ডক্টর সৈয়দ এ.এফ.এম. বরকত-এ-খোদা ও সৈয়দ এ.এফ.এম. রহমত-এ-খোদাসহ দেশের গণ্য মান্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। সম্মেলনে আগত মেহমানদের বিরিয়ানীর প্যাকেট ও কেক দেয়া হয়।

Saturday, December 7, 2019

বাবে রহমতের সাপ্তাহিক মাহফিলে সূফী সম্রাট


“মহামানবদের জন্মদিন, ওফাতের দিন ও পুনরুত্থানের দিন মানুষের মুক্তির দিন”

মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেব্লা বলেন, মহামানবদের জন্মদিন, ওফাতের দিন ও পুনরুত্থানের দিন- এই তিনটা দিনে আল্লাহ্ মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা করে থাকেন। তিনি গত ৭ই ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহ্ফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আল্লাহ্ নবী-রাসূলদের মোজেজা দিয়ে আর অলী-আল্লাহদের কারামত দিয়ে সাহায্য করেন। সমাজের অনেকের ধারণা, যাঁরা অলী-আল্লাহ্, তাঁদের কি আবার অলৌকিকত্ব থাকে? আসলে সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই ঘটানো হয়। নবুয়তের যুগে যাঁরা নবী-রাসূল হয়ে জগতে এসেছিলেন, আল্লাহ্ তাঁদেরকে অলৌকিক মোজেজা দিয়ে সাহায্য করেছেন। হযরত মুসা (আঃ)-কে আল্লাহ্ নয়টা মোজেজা দিয়েছিলেন। আমাদের রাসূল (সঃ)-এরও অসংখ্য মোজেজা ছিল। সমস্যা হলো- উমাইয়াদের শাসনামলে হযরত রাসূল (সঃ)-এর মোজেজা ধরে রাখার মত লোক তেমন ছিল না।
তিনি বলেন, একদিন আবু জাহেল বলেছিল, ভাতিজা। তুমি যদি এই চাঁদটাকে দ্বিখন্ডিত করতে পার, তাহলে আমি তোমাকে রাসূল স্বীকার করবো এবং ইসলাম গ্রহণ করবো। কারণ আবু জাহেলের ধারণা ছিল, এটাতো কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তখন হযরত রাসূল (সঃ) বললেন, ঠিক আছে। তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলী মোবারক দিয়ে ইশারা দিলেন। সাথে সাথে চাঁদ দুই টুকরা হয়ে যায়। উপস্থিত যারা ছিল তারা এঘটনা দেখেছে। আবু জাহেল বলেছিল, মোহাম্মদ! তুমি শেষ পর্যন্ত চাঁদের মাঝে যাদু লাগিয়ে দিলে। এরপরে সে বলে যায়, তার আর ইসলাম গ্রহণ করা হলো না। আসলে যাদের ভাগ্যে হেদায়েত নেই, তাদের এমনই হয়। হযরত রাসূল (সঃ) আরো অসংখ্য অলৌকিক মোজেজা দেখিয়ে ছিলেন। চৌদ্দশত বছর পরে জন্ম নিয়ে আমাদের দেশে এখনো আশেকে রাসূলেরা হযরত রাসূল (ষঃ)-এর মোজেজা দেখতে পায়।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আমার মোর্শেদের দরবারে আমরা একদিন আসরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় হাওলাদার কান্দির ইউছুফ মুন্সী নামে একজন লোক আমার মোর্শেদকে বললেন, বাবাজান! আমার স্ত্রী মারা গেছে। দয়া করে জানাজার নামাজ পড়ার জন্য দরবার থেকে একজন হুজুর পাঠান। বাবাজান আমাকে বললেন, মাহবুব মিয়া! একজন মাওলানা পাঠিয়ে দেন। তাড়াহুড়ার কিছু নেই, মাগরিবের পরে গেলেই চলবে। দরবার শরীফে মহসীন কারী নামে একজন ছিলো। আমি তাকে বললাম, আপনি ঐ গ্রামে গিয়ে তার জানাজার নামাজ পড়িয়ে আসেন। সে জানতে চায়, কখন যেতে হবে? আমি বললাম, এশার নামাজের সময় গেলেই চলবে। মহসীন কারী এশার নামাজের সময় রওয়ানা হলেন- ইউসুফ মুন্সীর বাড়ীর উদ্দেশ্যে। সে ইউসুফ মুন্সীর বাড়ীর কাছে গিয়ে সেখানে মারা যাওয়ার কোন আলামত পায় নাই। একটা মানুষ মারা গেলে সেখানে মানুষ কান্নাকাটি করে। কিন্তু সেই বাড়ীতে এরকম কোন লক্ষন দেখা যায় নাই। মহসীন কারী ভাবলো, আমি কি কোন ভুল সংবাদে এসেছি? তারপরও সে বাড়ীতে প্রবেশ করে দেখে, উঠানের মধ্যে সবাই বসে গল্প করছে। কারী সাহেব যার মৃত্যুর সংবাদে গেলেন, সেই মহিলাও উঠানে বসে অন্যদের সাথে গল্প করছে। এদিকে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ইউসুফ মুন্সীর মেয়ে পার্শ্ববর্তী পিয়াজখালীর শ্বশুরবাড়ী থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীতে আসে। এসে দেখে তার মা সবার সাথে বসে গল্প করছে। এতে মহসীন কারী হতবাক হয়ে জিজ্ঞেসা করে, আসলে ঘটনা কি ঘটেছে? তখন ইউসুফ মুন্সীর স্ত্রী বললো, আমি তো অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। এরপর কি হয়েছে জানি না। শুধু দেখেছি, শাহ্ চন্দ্রপুরী এসে আমাকে ডাক দিলেন, এই তুমি উঠো। এরপর আমার জ্ঞান ফিরে আসে। আমি উঠলাম। মহসীন কারী রাত ১১/১২ টার সময় দরবার শরীফে ফিরে এসে এই মৃত মহিলা পুনরায় জীবিত হয়ে উঠার কথা জানালেন। এরকম বহু ঘটনা আমি দেখেছি।
তিনি বলেন, আশেকে রাসূলেরা! অলী-আল্লাহদের কারামত সত্য। তাঁদের কারামত বিশ্বাস করতে হয়। আগেতো আমিও বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু চোখের সামনে ঘটলে বিশ্বাস না করে পারা যায় না। কয়েকদিন আগে আমাদের একজন জাকেরের মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া নিয়ে যায়। সেখানকার ডাক্তাররা বলে, তার আর বেশী সময় নেই। আপনারা তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে নিয়ে যান। ডাক্তারের কথা শুনে মেয়ের করে মা-বাবা কান্নাকাটি বিমানে ঢাকায় এসে সরাসরি আমার দরবার শরীফে এসে পৌঁছায়। মেয়ের বাবা আমার কাছে এসে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। আমি জানতে চাই, কি হয়েছে? তখন বললো, তার ব্লাড ক্যান্সার। ইন্ডিয়ার ডাক্তাররা বলেছে, তার আর বেশী সময় নেই। আমরা তখন তাকে নিয়ে চলে এসেছি। আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কি হয়েছে? সে বলে, আমার ক্যান্সার। তারপর বললো, আমি এক সাপ্তাহ যাবৎ কিছুই খেতে পারি না- এমনকি পানিও না। আমি জানতে চাই, তোমার কি ক্ষুধা লাগে? সে বলে, ক্ষুধাতো লাগে, কিন্তু আমি খেতে পারি না। আমি তার বাবাকে বললাম, আত্মার বাণী পত্রিকা চুবানো পানি ওকে খাওয়ান। পানি খাওয়ার পর সে খাবার খেতে চায়। আমি তাকে তিন তলায় আমাদের বাসার ভিতরে পাঠাই। সেখানে মেয়েটি পেটভরে খাবার খেলো। এরপর সে একদম সুস্থ্য, কোন অসুখ নেই। এরপর খুশিতে বাড়ী চলে যায়। আল্লাহ্র রহমতে মেয়েটি সুস্থ হয়ে গেছে। আমি মেয়েটির নতুন নাম রেখে দিলাম- নূরজাহান। সুতরাং আল্লাহ্ চাইলে কি না হয়। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, বিশ্বাসের নাম ঈমান। নিয়মিত দরবার শরীফে আসবেন। তরকিার আমল করবেন। এতেই আল্লাহর সাহায্য পাবেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে- প্রথমে আশেকে রাসূলদের মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফার তালিম দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১২টায় জু’মার নামাজের আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর বেলা দেড়টায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মঞ্চে তশরীফ নিয়ে মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলদের উদ্দেশ্যে তিনি বাণী মোবারক প্রদান করে মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নবাগতদের সবক দেন। মাহফিল শেষে সবাই তাবারুক খেয়ে বিদায় নেন।

Saturday, March 2, 2019

বাবে রহমতের সাপ্তাহিক মাহফিলে সূফী সম্রাট


সূফী সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের রিপুকে দমন করতে পারে


মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলা বলেন, সূফী সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের রিপুকে দমন করতে পারে। এই রিপু দমনের একমাত্র ঔষধ হলো ফায়েজ। সেই ফায়েজটা আল্লাহর কাছ থেকে হযরত রাসূল (সঃ) হয়ে আসে। সেই ফায়েজটা মানুষকে পবিত্র করে দেয়, রিপুগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ঐ ফায়েজের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি লাভ করতে হয়। যে যতবেশী ফায়েজ অর্জন করতে পারবে, সে ততবেশী উপকৃত হবে। তিনি গত ২রা মার্চ শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করছিলেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আদম সন্তানের দিলে শয়তান বাস করে। শয়তানের বাসস্থান মানুষের দিল। হযরত রাসূল (সঃ) ফরমান, যখন সেই দিলে আল্লাহর জ্বিকির জারি হয়, তখন শয়তান তীরের মত ভেগে যায়। এই কারণে আমাদের তরীকায় ক্বালবে জ্বিকির আমরা শিক্ষা দেই। আগে আমরা জানতাম না। আমার মোর্শেদের কাছে জানতে পেরেছি- আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা, নামাজে হুজুরী। তাফসীর লিখতে গিয়ে পবিত্র কুরআনে পেয়েছি, আল্লাহ্ হযরত মুসা (আঃ)-এর কাছে ওহী নাজিল করে বলেছিলেন, আপনার অনুসারীদেরকে তিনটা বিষয় শিক্ষা দেন- আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা, নামাজে হুজুরী। হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে আল্লাহ্ ওহী নাজিল করে বলেছেন, আপনার অনুসারীদেরকে আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা, নামাজে হুজুরী শিক্ষা দেন। আমরা এইটা পেয়েছি, আমার মুর্শেদ পীরানে পীর, দস্তগীর, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া মোজাদ্দেদীয়া তরীকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহঃ)-এর কাছে। এই শিক্ষাটাই আমার মুর্শেদ আমাকে দিয়েছেন। এই শিক্ষাটা সাধনা করতে গেলে মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রেম, রাসূলের প্রেম জাগ্রত হয়। আমরা এটার সাথে সংযোগ করেছি আশেকে রাসূল হওয়া। কারণ রাসূলের যুগ পর্যায়ক্রমে অনেক দূরে, চলে গেছে। এখন হযরত রাসূল (সঃ)-এর শিক্ষা সমাজে নাই। মানুষ রাসূলের কথা বলেই মানুষকে বিপথগামী করে। আমরা ঈমানী পরীক্ষায় পাশ করার জন্য আমরা হযরত রাসূল (সঃ)-এর এই শিক্ষাটায় মিলাদ সংযোগ করেছি। কারণ মিলাদটা পড়লে রাসূলের মহব্বতে কান্না আসে। এই মিলাদটা পড়লে আশেকে রাসূল হওয়াটা সহজ। এছাড়াও আমরা নিয়মিত দরূদ পড়ি।
তিনি বলেন, আমি যখন দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে জান্নাতে ছিলাম, তখন ঐখানে এক ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)-এর সম্মেলনে অসংখ্য লোক হয়েছিল। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনারা কারা কারা আমার এখানে এসে রাসূল (সঃ)-কে দেখেছেন? অসংখ্য লোক হাত তুলেছিল। এরপরে আমি বললাম, এতলোক যেহেতু হযরত রাসূল (সঃ)-কে স্বপ্নে দেখেছে, সেহেতু আমরা এখন থেকে সূফী সম্মেলন না করে, আমরা করবো আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেলন। এরপর থেকেই আমরা আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেলন শুরু করি। তখন আমি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আপনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাড়ীতে মিলাদ দেন। যারা মিলাদ দিবেন, তারা রাসূলের দিদার পাবেন। রাব্বুল আলামীন দয়া করেছেন, যারা মিলাদ দিয়েছে তাদের রাহমাতাল্লিল আলামীন দয়া করে দিদার দিয়েছেন। বহু লোক রাসূলের দিদার পেয়েছে। এখনও অনেকে আমার কাছে এসে বলে, মিলাদ দিয়ে হযরত রাসূল (সঃ)-এর দিদার পেয়েছে। আপনারা যারা উপস্থিত আছেন, আপনারা কি রাসূল (সঃ)-কে দেখেন না। আপনারা যদি দেখে থাকেন, তবে আপনাদের এদেখা প্রমাণ করে- আপনি রাসূলের উম্মত। না দেখে, না চিনে কিভাবে নিজেকে উম্মত প্রমাণ করবেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, যে যাহা ধারন করে তাই তার ধর্ম। আপনার চরিত্রটা কি? শান্তির না অশান্তির। যদি আপনার ধর্ম শান্তির হয়, তবে আপনি মুসলমান। আর অশান্তির হয় তবে আপনি মুসলমান না। এই শিক্ষাটাই অলী-আল্লাহদের দরবারে শিখানো হয়। এই শিক্ষা যেখানে পাবেন, সেখানে আপনার যেতে বাধাঁ নেই। আমাদের দরকার আল্লাহকে পাওয়া, রাসূলকে পাওয়া, চরিত্র সুন্দর করা। আপনি যদি তা করতে পারেন, তবে ঈমানের পরীক্ষায় পাশ করতে পারবেন। আল্লাহ্ কুরআনে বলেন, মু’মেনদের সাথে আল্লাহ্ সকাল সন্ধ্যা দুইবার দিদার দিবেন। আর কাফেরদের সামনে একটা পর্দা করে দিবেন, তারা যেন আল্লাহকে দেখতে না পারে। কাফের আর মুমিনদের মধ্যে পার্থক্য- এক মজলিসে কাফেরদের সামনে পর্দা, আর মুমিনদের সামনে এসে আল্লাহ্ দাঁড়াবেন। মুমেনরা প্রাণভরে আল্লাহকে দেখবেন। আমাদের আল্লাহকে পেতে হবে, রাসূলকে পেতে হবে, চরিত্র সুন্দর করতেই হবে। এই তিনটা না হলে আমরা মুক্তি পাব না। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। এটা গল্পের বিষয় না, সাধনার বিষয়। সাধনা করে যারা আল্লাহকে পেয়েছে, তারা পরম শান্তিতে আছে। আর যারা আল্লাহকে হারিয়েছে তারা চরম অশান্তিতে আছে।
তিনি বলেন, আশেকে রাসূলেরা! মনোযোগ দিয়ে তরীকার কাজ করেন। আমাদের এখানে কুরআন হাদীসের বাইরে কোন কাজ আমরা করি না। আর কেউ তা করুন, সেটাও আমরা পছন্দ করি না। আমরা চাই আমারা যেন রাসূলের দিদার পাই, রাসূলের চরিত্রে চরিত্রবান হতে পারি এবং আল্লাহর দিদার পাই। আপনারা অধিক মোরাকাবা করবেন। হযরত রাসূল (সঃ) পনের বছর মোরাকাবা করার পরেই আল্লাহর সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। আমরা ঐ পনের বছরের মোরাকাবাটা আমাদের সারা জীবনের সাথে মিলিয়ে যদি পাচঁ ওয়াক্ত নামাজে মোরাকাবা করি, আর শেষ রাতে মোরাকাবা করি। এভাবে প্রতিদিন ছয়বার মোরাকাবার মাধ্যমে যদি রাসূলের কাছে যান, গিয়ে কান্নাকাটি করেন। রাসূলের জুতা মোবারক ভিক্ষা নিয়ে আল্লাহর আরশে হাজির হন, কান্নাকটি করেন, আল্লাহর কাছ থেকে ফায়েজ নিয়ে রাসূলের মাধ্যমে আপনার ক্বালবে নিয়ে আসেন, তাহলে আপনার রাসূলের সাথে পরিচয় হবে, আল্লাহর সাথেও পরিচয় হবে। আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে পরিচয় হলে আপনি স্বাধীন, আপনি মুক্ত। আপনার জন্যই আল্লাহর সৃষ্টি জগৎ। সুতরাং মহব্বতের সাথে তরীকার আমল করেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে- প্রথমে আশেকে রাসূলদের মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফার তালিম দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় জু’মার নামাজের আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর বেলা দেড়টায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলদের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করে মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নবাগতদের সবক দেন। মাহফিল শেষে সবাই তাবারুক খেয়ে বিদায় নেন।

Thursday, February 28, 2019

আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারী, শুকরিয়া দিবস

আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারী, শুকরিয়া দিবস

আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারী আশেকে রাসূলদের জন্য শুকরিয়া আদায়ের দিন। গত বছর এদিনে আমাদের মহান মোর্শেদ মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) দয়াল বাবাজান ইউনাইটেড হাসপাতালে ২৫ দিন চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ২৮শে ফেব্রুয়ারী তাঁকে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ফিরিয়ে আনা হয়। আজকের এই শুভ দিনে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে জানাই লাখো শুকরিয়া। আল্লাহ্ তায়ালার কাছে প্রার্থনা জানাই- হে প্রভু! তুমি দয়া করে আমাদের দয়াল বাবাজানের হায়াত মোবারক দারাজ করে দাও। তাঁর শরীর মোবারক পূর্ণ সুস্থ রেখো। সারা দুনিয়ার মানুষ যেন তাঁর পরিচয় পেয়ে মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করে আশেকে রাসূল হতে পারে, সেই তাওফিক ভিক্ষা দাও। আমীন।

ডক্টর সৈয়দ এম. সাঈদুর রহমান আল্-মাহবুবী
মহাসচিব
দেওয়ানবাগ শরীফ

Saturday, February 23, 2019

বাবে রহমতের সাপ্তাহিক মাহফিলে সূফী সম্রাট


হযরত রাসূল (সঃ) মে’রাজে গিয়ে আল্লাহকে দেখেছিলেন

মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলা বলেন, আল্লাহ্ নিরাকার নন : তাঁর আকার আছে। হযরত রাসূল (সঃ) মে’রাজে গিয়ে আল্লাহকে দেখেছিলেন, তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন। হযরত রাসূল (সঃ) কি নিরাকার আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন? নিরাকার আল্লাহকে কি দেখেছিলেন? নিশ্চয়ই না। তিনি গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করছিলেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আমরা মাদ্রাসায় যখন পড়তাম, তখন আমাদের শিক্ষকরা পড়াতেন- হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হযরত রাসূল (সঃ)-এর কাছে ওহী নিয়ে এসেছিলেন। এর দলিল বুখারী শরীফের কিতাবুল ঈমানের প্রথম হাদীস। কিন্তু এখন আমরা বলছি, আসলে জিব্রাঈল ফেরেশতা রাসূল (সঃ)-কে শিক্ষা দিতে আসেন নাই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেছেন, “আর রাহমানু আল্লামাল কুরআন” অর্থাৎ- দয়াময় আল্লাহ্ (রাসূল কে) কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেন তিনি নিজে রাসূল (সঃ)-কে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ সমাজে প্রচলিত আছে, জিব্রাঈল না-কি শিক্ষা দিয়েছেন। এতেই বুঝা যায়- সমাজের প্রচলিত ধারণা ভুল। আল্লাহ্ নিজেই তাঁর হাবীবকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এদিকে হযরত রাসূল (সঃ) বলেছেন, “বুয়িস্তু মুয়াল্লেমাল” অর্থ- “আমি শিক্ষক রূপে প্রেরিত হয়েছি।” আল্লাহ্ যাঁকে সুশিক্ষিত করে শিক্ষক রূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি কেন জিব্রাঈলের কাছে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন?
তিনি বলেন, আমরা পবিত্র কুরআনের তাফসীর লিখতে গিয়ে দেখেছি, হাদীসের মধ্যে অসংখ্য জাল হাদীস। তখন আমি কি করবো ভেবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেলাম। এরপর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দয়ায় সমাধান হয়েছে। আমাকে জানিয়ে দেয়া হলো কুরআনের সাথে যে হাদীসের মিল আছে সেটা গ্রহণ করতে, আর যে হাদীস কুরআনের সাথে মিলে না, সেটা পরিত্যাগ করতে। এরপরে, আমি তাফসীরে যে হাদীসের সাথে কুরআন মিলেছে, সেগুলো গ্রহণ করেছি, আর যে হাদীস কুরআনের সাথে মিলে না, সেটা গ্রহণ করিনি। দেখতে গেলে, বাজারে হাদীসের কিতাব সয়লাব হয়ে গেছে। এর মধ্যে কোনটা রাসূলের হাদীস বুঝা কঠিন। এমতাবস্থায় আমরা কিভাবে হাদীসের উপর আমল করবো? কোরআনের তাফসীরের উপর আমল করবো? তাফসীরের মাঝেও অনেক জাল হাদীস ঢুকে গেছে। হযরত রাসূল (সঃ) পরে ইসলামের চরম শত্রু উমাইয়াইতো ক্ষমতায় এসেছে। উমাইয়াদের ৮৯ বছরের শাসনামলে এরা ক্ষমতায় এসে নিজেদের মত ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়েছে। আর মোহাম্মদী ইসলামটা থেকে মোহাম্মদ নামটা কেটে দিয়ে দ্বীন ইসলাম লাগিয়ে দিয়েছে। এখন সারাবিশ্বের মানুষ বলে ইসলামের নাম দ্বীন ইসলাম। প্রশ্ন জাগে হযরত রাসূল (সঃ)-এর নাম কোথায় গেল? এতে বুঝা যায় দ্বীন ইসলামে রাসূল (সঃ) নেই। এটা সোয়াবের ইসলাম। সুতরাং আমাদের জানতে হবে আমরা কিভাবে চলবো। একারণেই তরীকার সাধনা করে আপনি যদি অন্তরদৃষ্টি জাগ্রত করতে পারেন, অন্তরের কান জাগ্রত করতে পারেন, অন্তরের মুখ জাগ্রত করতে পারেন, তখন ফায়েজের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন, কোনটা সহিহ হাদীস, আর কোনটা জাল হাদীস।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, সারা দুনিয়ার মানুষ মানে আল্লাহ্ নিরাকার। এই জানাটা কি সত্যি? না। বিধর্মীরা হযরত রাসূল (সঃ)-এর ইসলাম ধ্বংস করার জন্য সক্রিয় ছিল। অথচ হযরত রাসূল (সঃ) সব সময় চেষ্টা করেছেন মানুষ যেন আাল্লাহকে পায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছলে-বলে-কৌশলে হযরত রাসূল (সঃ)-এর ইসলাম থেকে মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে বিশ্বে এতো মুসলমান হওয়ার পরও ঐক্যমত নেই। দ্বন্দ্ব,কলহ, মারামারি-কাটাকাটি মুসলমানদের ভিতরেই। আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন, অন্যান্য নবীর উম্মতের মধ্যে বাহাত্তর ফেরকা বা দল; আর আমার উম্মতের মধ্যে তিয়াত্তর ফেরকা বা দল। এদের মধ্যে এক দল বেহেস্তী, আর বাহাত্তর দল জাহান্নামী। আবার এটাও বলেছেন, বাহাত্তর দল জাহান্নামী হলেও তিয়াত্তর দলে মধ্যে প্রত্যেক দলেই আলেম থাকবে। তাহলে আমরা কোন দলে যাবো। সব দলইতো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্ব করে, যাকাত দেয়।
তিনি বলেন, আমাদের চলতে হবে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসূলের বিধান মোতাবেক। আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলের বিধান মেনে চলে অলী আল্লাহ্রা। নতুবা কেউ অলী-আল্লাহ্ হতে পারে না। অলী-আল্লাহ্ হতে হলে তাঁকে হযরত রাসূল (সঃ)-এর উত্তরসূরী হতে হবে। আল্লাহর মনোনীত হতে হবে। কামালিয়াতের সার্টিফিকেটটা দেন আল্লাহ্ পাক নিজে। মোর্শেদ তাকে শিক্ষা দেন; আর হযরত রাসূল (সঃ) এবং আল্লাহ্ তাকে পুরুস্কৃত করেন। সুতরাং মনোযোগ দিয়ে তরীকার কাজ করেন এবং আল্লাহ্ সম্বন্ধে জানেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে- প্রথমে আশেকে রাসূলদের মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফার তালিম দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১২টায় জু’মার নামাজের আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর বেলা দেড় টায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলদের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করে মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নবাগতদের মোহাম্মদী ইসলামের সবক দেন। মাহফিল শেষে সবাই তাবারুক খেয়ে বিদায় নেন।

Saturday, February 16, 2019

বাবে রহমতের সাপ্তাহিক মাহফিলে সূফী সম্রাট


মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা অনুশীলনের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব

মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলা বলেন, মোহাম্মদী ইসলাম কিভাবে বাস্তব জীবনে শান্তি এনে দিতে পারে, এবারের বিশ্ব আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেলনে তা প্রমাণিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসূলের এই মিলন মেলা বর্তমান বিশ্বে শান্তি শৃংখলার এক উজ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষ হযরত রাসূল (সঃ)-এর শান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা অনুশীলন করলে সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি গত ১৬ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহ্ফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করছিলেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করি মানুষকে হযরত রাসূল (সঃ)-এর শিক্ষা দেয়ার জন্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের এগারটি দরবার শরীফ ও কয়েকশত খানকাহ্ শরীফ রয়েছে। এসবগুলোতেই ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়- কিভাবে একজন মানুষ আত্মশুদ্ধি লাভ করে আদর্শ চরিত্রবান হতে পারে। হযরত রাসূল (সঃ) হেরাগুহায় নির্জনে মোরাকাবা তথা ধ্যান করে আল্লাহকে পেয়েছেন। পৃথিবীতে আগত সমস্ত নবী-রাসূল মোরাকাবা করে আল্লাহকে পেয়েছেন। সুতরাং আমরা যদি আল্লাহকে পেতে চাই, তবে আমাদের মোরাকাবা করতে হবে। মোরাকাবা বিহনে আত্মশুদ্ধি হয় না।
তিনি বলেন, মুসলিম সমাজে কথায় কথায় শিরিক-বিদআত বলতে শুনা যায়। আসলে আল্লাহর সাথে অপর কাউকে শরীক করাকে শিরিক বলে। আমরা নামাজ পড়ি আল্লাহকে সেজদা করার জন্য। কিন্তু নামাজে দাঁড়িয়ে যদি আল্লাহকে ভুলে অন্য কারো কল্পনা করি, আর ঐ অবস্থায় যদি নামাজ আদায় করি, তবে সেটা হবে শিরিক। কারণ আল্লাহ্ হলেন একমাত্র মা’বুদ অর্থাৎ উপাস্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তায়ালা শিরিক হতে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আপনারা নিয়মিত ওয়াজিফার আমল করবেন। আমল না করলে আত্মশুদ্ধি হয় না। আর আত্মশুদ্ধি না হলে তরীকতের নেয়ামত ধরে রাখা যায় না। আমার মোর্শেদ ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ)-এর দরবার শরীফে অনেক ভক্ত মুরীদান ছিলো। তারা সবাই আমার মোর্শেদের তরীকা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর পবিত্র সোহবত লাভ করেছেন। কিন্তু আমার মোর্শেদের ইন্তেকালের পর তাঁর তরীকা ধরে রাখতে পেরেছে, দেওয়ানবাগ ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। একমাত্র আমরাই ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ) তরীকা ধরে রাখতে পেরেছি এবং তা প্রচার করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন খুব বেশী দীর্ঘ সময়ের নয়, দেখতে দেখতে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দরবারে পুরানো জাকের অনেকে মারা গেছেন। এখন আমাদের দরবারে জাকেরের সংখ্যা এত বেশী যে, পুরাতন লোকদের খুঁজে পাওয়া যায় না। যারা আসে, যারা আমার কাছে এসে ডিউটি করে, তাদের অনেককেই আমি চিনি না। কাজেই সময় থাকতেই আমাদের তরীকতের নেয়ামত লাভ করতে হবে। আপনি যদি দুনিয়াতে থাকতেই আল্লাহ্ ও হযরত রাসূল (সঃ)-এর পরিচয় লাভ করতে না পারেন, তবে ঈমান নিয়ে কবরে যাওয়া কঠিন হবে। আপনারা মনোযোগ দিয়ে তরীকার আমল করবেন। কেউ গাফিলতি করবেন না।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে- প্রথমে আশেকে রাসূলদের মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফার তালিম দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১২টায় জু’মার নামাজের আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেওয়ানবাগ শরীফের সম্মানীত মহাসচিব বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সম্পাদক ডক্টর সৈয়দ এম. সাঈদুর রহমান আল্-মাহবুবী মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা ও তাৎপর্যের উপর আলোচনা করেন। অতঃপর বেলা দেড় টায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলদের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করে মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নবাগতদের মোহাম্মদী ইসলামের সবক দেন। মাহফিল শেষে সবাই তাবারুক খেয়ে বিদায় নেন।

Saturday, February 9, 2019

বাবে রহমতের সাপ্তাহিক মাহফিলে সূফী সম্রাট


আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছেন

মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলা বলেন, বিশ্ব আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেলন সাফল্যজনকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছেন। আমরা যে সত্য ধর্ম প্রচার করি, তা মানুষ বুঝতে পেরেছে। তিনি গত ৯ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করছিলেন।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আল্লাহ্ পাকের অপার দয়ার বদৌলতে আমরা পীরানে পীর, দস্তগীর, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া-মোজাদ্দেদীয়া তরীকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ)-এর ১০৮তম শুভ জন্মবার্ষিকী স্মরণে গত শুক্রবার বিশ্ব আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেল উদযাপন করেছি। এবারের সম্মেলনটা ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী সম্মেলন। আমরা সম্মেলন যেন করতে না পারি, সেজন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু রাব্বুল আলামীনের অপার দয়ার বরকতে আমরা সুন্দরভাবে সম্মেলন করতে পেরেছি। এটা আল্লাহর বিশেষ দয়া।
তিনি বলেন, নবীদের যুগ, রাসূলের যুগ, আওলিয়ায়ে কেরামের যুগ অতিবাহিত হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ মানবজাতির কাছে তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলেছেন, আল্লাহ্ এক। এক আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরার কারনে, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার কারনে, তাঁদের কেহ কেহ শহীদ পর্যন্ত হয়েছেন। আল্লাহ্ পাকের অপার দয়ায় আমরা একেবারে সহজে আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। মানুষ বলে, আল্লাহ্ নিরাকার। আমরাও বলতাম, আল্লাহ্ নিরাকার। সাধনা জগতে গিয়ে জানলাম আল্লাহর পরিচয় লাভ করা যায়। নিরাকারের তো আর পরিচয় পাওয়া যায় না। আমি আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরে প্রথমে ‘আল্লাহ্ কোন পথে’ নামক একটা কিতাব লিখেছি। পরে ‘আল্লাহকে সত্যিই কি দেখা যায় না?’ নামে আরেকটি কিতাব লিখেছি। তখন আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আমি, আমার স্ত্রী, আমার বড় মেয়ে, সাঈদুর মিয়াসহ যারা আমাদের কিতাবের সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মোট সতের জন আসামী ছিল। আমি তখন আমার কিতাবের স্বপক্ষে আল্লাহকে দেখা যায়, এই মর্মে একটা স্টেটমেন্ট লিখে উকিলের মাধ্যমে আদালতে পাঠাই। সেটার নাম ছিল ‘সূফী সম্রাটের জবানবন্দী’। জজ সাহেব আমার জবানবন্দী পড়ে মুগ্ধ হয়ে আমার দরবার শরীফে এসে তরীকা গ্রহণ করেন। এরপর মামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, আমি আল্লাহর পরিচয় বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করার জন্য ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ লিখেছি। এতে পবিত্র কুরআনের বাণী ও হযরত রাসূল (সঃ)-এর বাণী দিয়ে আল্লাহর পরিচয় জগতবাসীর কাছে তুলে ধরেছি। আল্লাহর দয়ায় সম্মেলনের আগের সোমবার আমি এই তাফসীরের নবম খণ্ড লেখা সম্পন্ন করেছি।
তিনি বলেন, এই তাফসীরের ৬ খণ্ড ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। অবশিষ্ট সপ্তম অষ্টম ও নবম এই তিন খণ্ড ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই তাফসীর পাঠ করে বুঝবেন, যারা আল্লাহকে নিরাকার বলছে, তাদের কত বড় ভুল। আল্লাহ্ বলেন, আমার আকার আছে। আর আপনি বলবেন, আল্লাহর আকার নেই। তবে তো আপনি সরাসরি আল্লাহ্র বিপক্ষে চলে গেলেন। আপনারা এই তাফসীর পড়ে বুঝতে পারবেন। আল্লাহ্ নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। আল্লাহ্ বলেন, আমি সমস্ত জ্বীন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি, তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করেছি; আমি আসমান জমিনের সমস্ত প্রাণীকে সৃষ্টি করেছি, এদের রিজিকের ব্যবস্থা করেছি। তারপরও মানুষ বলে আল্লাহ্ নিরাকার। এটা কি আল্লাহর জন্য কষ্টের নয়। নিরাকার মানে কিছুই না। আসলে নিরাকার বলতে কিছু নেই। তবে একটা জিনিস আছে, তা হলো ‘ঘোড়ার ডিম।’ কথাটা সমাজে বহুল প্রচলিত। কারণ ঘোড়া জিন্দেগীতে ডিমও পাড়বে না; আর এই ডিমের আকারও হবে না। বিধর্মীদের ষড়যন্ত্র আর স্বধর্মীদের অজ্ঞতার সুযোগে আল্লাহকে নিরাকার বলে প্রচার করা হয়েছে। আল্লাহকে নিরাকার বলার কারনেই মুসলিম জাতির উপর খোদায়ী গজব আসছে। অন্য কোন জাতির উপর এরকম গজব নেই। সারা বিশ্বে মুসলমানরা ইবাদত বন্দেগীও বেশী করে, গজবেও বেশী পড়ে। আপনি যার ইবাদত করেন, আপনি যদি তাকে নিরাকার বলেন, তিনি কি খুশী হবেন? আল্লাহ্ নিজের পরিচয় প্রচারের জন্য এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাঁরা সবাই স্বজাতির কাছে আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা বলেন, মুসলিম জাতির আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা যে, হযরত রাসূল (সঃ) গরীব ছিলেন। অথচ তাঁর দাদা ছিলেন মক্কার শাসনকর্তা। তাঁর পিতা ছিলেন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী। শৈশবে হযরত রাসূল (সঃ) দাদার তত্ত্বাবধানেই লালিত পালিত হন। তিনি মক্কার সবচেয়ে ধনাঢ্য রমনী হযরত খাদিজা (রাঃ)-কে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দরবারে প্রতিদিন তিন থেকে চারশত লোক খাবার খেতেন। তিনি গরীব হলে প্রতিদিন কি এতলোক খাওয়াতে পারতেন? আমরা যদি কুলকায়েনাতের রহমত হযরত রাসূল (সঃ)-কে গরীব বলি, তবে তিনি আমাদের সাহায্য করবেন কিভাবে?
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্ ও হযরত রাসূল (সঃ) সম্বন্ধে আমাদের ধারণা ও বিশ্বাস ঠিক রেখে সাধনা করলে তবেই মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছতে পারবো। আপনারা মনোযোগ দিয়ে তরীকার কাজ করেন। তাহলে আল্লাহর সাহায্য পাবেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে- প্রথমে আশেকে রাসূলদের মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফার তালিম দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় জু’মার নামাজের আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেওয়ানবাগ শরীফের সম্মানিত মহাসচিব বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সম্পাদক ডক্টর সৈয়দ এম. সাঈদুর রহমান আল্-মাহবুবী মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা ও তাৎপর্যের উপর আলোচনা করেন। অতঃপর বেলা ২টায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলা মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার আশেকে রাসূলদের উদ্দেশ্যে বাণী মোবারক প্রদান করে মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নবাগতদের সবক দেন। মাহ্ফিল শেষে সবাই তাবারুক খেয়ে বিদায় নেন।